বৃহস্পতিবার । ১২ই মার্চ, ২০২৬ । ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২
খুলনায় এসেছে সৌদির ১৭৮ কাটুন

কেসিসি’র খেজুর যাচ্ছে এতিমখানায়, অনেক আসনে এখনও পৌঁছেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি সরকারের পাঠানো খেজুর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যমে তার এলাকায় পাঠানো খেজুরের তথ্য তুলে ধরেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন সংসদীয় এলাকার মানুষ তার এলাকার জন্য বরাদ্দ হওয়া খেজুরের তথ্য জানতে চাইছেন।

এমন আলোচনার মাঝেই গত মঙ্গলবার রাতে খুলনায় ১৭৮ কাটুন খেজুর পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার সকালে খুলনা সিটি করপোরেশনসহ (কেসিসি) জেলার ৯টি উপজেলায় খেজুর ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কেসিসিহ ৭টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গতকাল বুধবার সকালেই খেজুর পাঠানো হয়েছে। শুধু কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার খেজুর এখনও জেলার ত্রাণ ভা-ারে রয়েছে।

এর মধ্যে খুলনা-২ ও ৩ আসন নিয়ে গঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার বরাদ্দ হওয়া খেজুর এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্য উপজেলায় হাতে পাওয়ার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি সরকারের আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড এন্ড রিফিল সেন্টার’ প্রতিবছর রমজান উপলক্ষে উপহার হিসেবে খেজুর পাঠান। চলতি বছর ১২ হাজার ৫০০ কাটুন খেজুর দেশে পৌঁছায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। গত ১ মার্চ ৬৪ জেলায় এই খেজুর ভাগ করে দেওয়া হয়। খুলনা জেলার জন্য বরাদ্দ হয় ১৮২ কাটুন।

খুলনা জেলার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আবদুল করিম জানান, “মঙ্গলবার বিকেলে আমরা ১৭৮ কাটুন খেজুর বুঝে পেয়েছি। নথিতে ১৮২ কাটুন লেখা থাকলেও ১৭৮ কাটুন প্রাপ্তির বিষয়টি আমরা জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে খেজুরগুলো উপজেলা প্রশাসক ও কেসিসিতে বন্টন করা হয়েছে। এখন তারা বিধি অনুযায়ী বিতরণ করবে।”

তিনি জানান, “কেসিসিতে ৩২ কার্টুন, দাকোপে ১৯, বটিয়াঘাটায় ১৫, ডুমুরিয়ায় ২৯, পাইকগাছায় ২১, কয়রায় ১৫, ফুলতলায় ৯, দিঘলিয়ায় ১৩, তেরখাদায় ১৩ ও রূপসায় ১২ কার্টুন দেওয়া হয়েছে। কয়রা ও পাইকগাছা ছাড়া বাকিরা খেজুর বুঝে নিয়েছে।”

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিবছর এভাবেই খেজুর আসে এবং একইভাবে বিতরণ করা হয়। তবে মাঝে কয়েকবছর সিটি করপোরেশন এলাকায় খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।”

কেসিসিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার সকালে তাদের ৩২ কাটুন খেজুর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “খুলনা মহানগরীর সবকটি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিয়ে খেজুরগুলো সমানভাবে বন্টন করা হবে। সেভাবেই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

দ্বিতীয় বড় বরাদ্দ গেছে ডুমুরিয়ায়। সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানান, খেজুর আনতে আমাদের কর্মকর্তা গেছেন, এখনও পৌছাননি। নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমখানায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন